হলুদ সাংবাদিকতা, হলুদের রাজনীতি (!) পর্ব-২

NewsBarisal.com

প্রকাশ : আগস্ট ৬, ২০২০, ১:২৭ অপরাহ্ণ

এম.কে. রানা ॥
হলুদ সাংবাদিকতা ও হলুদের রাজনীতি মিলেমিশে একাকার। আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে কান পাতলে যেমন ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ শব্দটি অহরহ শোনা যায়। তেমনি রাজনীতিতেও ‘কাউয়া’ ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দের মতো ‘হলুদ রাজনীতি’ পরিলক্ষিত হচ্ছে। হলুদ সাংবাদিকদের দায় যেমন কোন প্রকাশক-সম্পাদক নিতে চান না, তেমনি হলুদ রাজনীতিবিদদের অপকর্মের দায়ও কোন রাজনৈতিক দল নেয় না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, দিন দিন হলুদ সাংবাদিকতা যেমন বাড়ছে, তেমনি হলুদ রাজনীতিবিদদেরও দেখা মিলছে। তবে এই ‘হলুদ’ সাংবাদিকতা ও রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নইলে প্রতিনিয়ত জন্ম নিবে একেকজন দুর্নীতিবাজ, চাটুকার ও প্রতারক। যেমনটা মিডিয়ার সৃষ্টি প্রতারক সাহেদ। যে কিনা মিডিয়ার কল্যাণে রাজনৈতিক বিশ্লেষক তকমা পেয়ে যাচ্ছিলেন। সেক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা।

প্রিয় পাঠক, আসুন ‘হলুদ’ রং এর প্রতীক কি সেটা জেনে নিই। ভাষাবিদদের মতে, হলুদ রং বুদ্ধি বা অনুভবের প্রতীক। হলুদের দিকে এক দৃষ্টে চেয়ে থাকলে বিরক্তিকর একটি ভাব চলে আসে। সেই অর্থে এই রঙের সঙ্গে যুক্ত বিশ্বাসঘাতকতা, দুর্বলতা, প্রতারণা ইত্যাদি।

সংবাদ মাধ্যম জনসাধারণকে তথ্য দিয়ে অবহিত করে, যুক্তি ও ব্যাখ্যা দিয়ে প্রণোদিত করে এবং কাঙ্খিত উন্নয়নের অনুকূলে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। প্রকৃত বাস্তবতার আলোকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন করাই সংবাদমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। পক্ষপাতহীন ও বাস্তবধর্মী সংবাদ পরিবেশন করাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব। কোন ঘটনার বিকৃত ও পক্ষপাততুষ্ট প্রতিবেদন কাঙ্খিত নয়।

অপরদিকে রাজনীতি শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘রাজ্য বা রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল”। একজন রাজনৈতিক কর্মী মানে হচ্ছে, ওই দলের আদর্শ ও কার্যক্রমের উপর পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন। দলের জন্য নিবেদিত থেকে কাজ করা। পাশাপাশি একজন রাজনৈতিক কর্মী হবার মতো রাজনৈতিক জ্ঞানও থাকতে হবে। দলের বা শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে বিত্তশালী হয়ে ওঠা কোনভাবেই কাম্য নয়।

আমরা যদি হলুদ রংয়ের সাথে যুক্ত বিশ্বাসঘাতকতা বিষয়ে আলোকপাত করি তাহলে দেখা যায়, বর্তমানে একশ্রেনীর সংবাদ মাধ্যম কোনরূপ তথ্য উপাত্ত না দিয়ে একতরফা ভাবে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করছে। যা সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারে না। সাংবাদিকতায় উৎস-সূত্র বিহীন প্রতিবেদনের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই।

সাংবাদিকতার মানে হচ্ছে, মানুষকে নতুন কিছু বলা, এমন কিছু বলা যেটা তাদের মনোযোগ আকর্ষন করবে, তাদের ধরে রাখবে। আর এই মনোযোগ আকর্ষন ও ধরে রাখতে মনগড়া কল্পকাহিনীর সংবাদ প্রায়শঃই দেখা যায়। তা না হলে ‘আমরা দুঃখিত’ ‘দুঃখ প্রকাশ’ ‘প্রকাশিত সংবাদের ভিন্নমত’ এ শিরোনামগুলো দেখা যেত না। হ্যাঁ এ ধরণের শিরোনাম হতে পারে। কেননা সংগৃহীত তথ্যে ভুল থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সংবাদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে আরো বেশি সচেতন ও পেশাদারিত্ব মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য পত্রিকায় জনৈক বয়োবৃদ্ধ পুলিশের ফেস শিল্ড খুলে রাখার ছবি প্রকাশ করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ অবশেষে ভুল স্বীকার করেন। আসলে এটি কাম্য নয়। আমাদের সমালোচনা উর্দ্ধে থেকে কাজ করতে হবে। সবকিছু যেমন নিজেকে দিয়ে বিচার করা যায় না, ঠিক তেমনি সবকিছু অন্যকে দিয়েও বিচার করা ঠিক নয়। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। তবেই কেবল প্রকাশিত সংবাদ বা ছবির গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

করোনা দূর্যোগের মধ্যে তথাকথিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক (মিডিয়ার কল্যাণে) শাহেদের প্রতারণা ও আটক হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাহেদকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। সেখানে কেউ কেউ মিডিয়াকে দায়ী করেছেন। তাদের ভাষ্য, মিডিয়া-ই শাহেদকে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের তকমা এটে দিয়েছে। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রতারক শাহেদ রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। শাহেদ এত বড় মাপের একজন প্রতারক হয়ে উঠেছিলেন যে তিনি গোয়েন্দা সংস্থার চোখকে ফাঁকি দিয়ে গণভবনে লালগালিচায় পদার্পন করেছিলেন। এটা হলুদ সাংবাদিকতার মতোই হলুদ রাজনীতি হতে পারে। কেননা আজকের শাহেদ একদিনে জন্ম হয়নি। কোন না কোন রাজনীতিবিদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়েই আজকের শাহেদের জন্ম।

আপনারা দেখবেন যে, প্রতারক শাহেদ আটক হওয়ার পর অনেক গণমাধ্যম শাহেদের অজানা তথ্য নিয়ে অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রচার করছে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে ‘এতদিন এ অনুসন্ধানি প্রতিবেদন কোথায় ছিল’। এখানে সংবাদকর্মীদের কোন কৃতিত্ব আছে বলে আমার মনে হয় না। কেননা, প্রশাসনের হাতে আটক হওয়ার পর তারাই মূলত শাহেদের নানা অপরাধের তথ্য খুঁজে পায়।

সাংবাদিকতা পেশাটি যেমন মহান তেমনি দায়িত্বশীলও। আবার এ পেশায় কিছু ঝুঁকি থাকলেও অর্জনও কিন্তু কম নয়। ফলে হাজার পেশার ভিড়েও এই পেশাটি আলাদা ব্যক্তিত্ব হিসেবে দাড়িয়ে থাকে।

আমাদের দেশে বিভিন্ন সংগঠন বিদ্যমান থাকলেও রাজনৈতিক সংগঠন এখনো আলাদা অর্থ বহন করে। কেননা রাজনৈতিক দলের নীতি আদর্শ ধারণ করেই রাজনীতিতে নাম লেখাতে হয় বলে এখনো বিশ্বাস করেন অধিকাংশ রাজনীতিবিদ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এ দলের সুনাম ক্ষুন্ন করে এমন শাহেদদের ঠেকাতে হবে। তবেই কেবল বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াবে।

আজকাল ইন্টারনেটের বদৌলতে যেভাবে তথ্য এবং অপ-তথ্যের ছড়াছড়ি, সেখানে সঠিক তথ্য খুঁজে পাওয়া দুরূহ ব্যাপার। যেখানে সেখানে যে কেউ অনলাইন পোর্টাল খুলে স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। যার প্রচার বেশি, সে ততো বড় সাংবাদিক। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে অনলাইন পত্রিকার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে যতদিন না তা বাস্তবায়ন হচ্ছে, ততোদিন পাঠককে ভূগতে হবে (!) বৈকি। চলবে

 



সর্বশেষ সংবাদ
বানারীপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা করেছেন আনিচ মৃধা মাদক খাবেন আবার পুলিশে চাকুরী করবেন তা হবে না : বিএমপি কমিশনার গলাচিপায় অপহৃত কিশোরী উদ্ধার, গ্রেফতার-১ রাজাপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় শিক্ষক আহত, নগদ টাকা ও সাইকেল উধাও গলাচিপায় সক্রিয় কালা জ্বর রোগ শনাক্তকরণ সভা টেকসই উন্নয়নের জন্য টেকসই নিরাপত্তা অপরিহার্য: ভোলার এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার অ্যাটর্নি জেনারেলের মৃত্যুতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর শোক বরিশালে বিশ্ব পর্যটন দিবসে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ দুর্গাসাগর দীঘিতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই