• জাতীয়
  • »
  • করোনাকালে কাঁদাল বুড়িগঙ্গা

করোনাকালে কাঁদাল বুড়িগঙ্গা

NewsBarisal.com

প্রকাশ : জুন ৩০, ২০২০, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক ।।

আবদুর রহমান পেশায় মুহুরি। স্ত্রী হাসিনা রহমান ও ৯ বছরের সন্তান সিফাতকে নিয়ে থাকতেন পুরান ঢাকার কসাইটুলিতে। করোনাকালের আগে মোটামুটি ভালোই চলছিল তাদের সংসার। করোনায় সব ওলট-পালট হয়ে যায়। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ঢাকার বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

কসাইটুলির বাসার মালপত্র নিতে আবদুর রহমান স্ত্রী-সন্তানসহ গতকাল সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে মর্নিংবার্ড নামের লঞ্চে ঢাকায় আসছিলেন। লঞ্চ নোঙর করার আগেই বুড়িগঙ্গার সদরঘাটের বিপরীত দিকে ফরাশগঞ্জ ঘাটে এমভি ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ডুবে যায় তার লঞ্চটি। এতে বাসার মায়া ছাড়ার আগেই দুনিয়ার মায়া ছাড়তে হলো পরিবারটিকে।

মর্মান্তিক এ লঞ্চডুবিতে গতকাল রাত পর্যন্ত ২০ জন পুরুষ, ৯ জন নারী, তিন শিশুসহ ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩১ জনের পরিচয় মিলেছে। তাদের অন্তত ৩০ জনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কিনা, তাও নিশ্চিত নয়।

করোনার মহামারিতে নিকটজনকে হারিয়ে প্রতিদিনই চোখের জল ফেলতে হচ্ছে দেশের বহু মানুষকে। এই শোকের মধ্যে বুড়িগঙ্গায় এই ট্র্যাজেডিতে কাঁদছে সারাদেশ। জানা গেছে, ময়ূর লঞ্চটিতে বৈধ চালক ছিল না। এ ঘটনায় লঞ্চটির ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নৌ পুলিশ।

লঞ্চডুবির পর স্বজনের শোক আর আহাজারিতে বুড়িগঙ্গার বাতাস ভারি হয়ে উঠছিল। মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গেও ছিল আর্তনাদ। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেও ছিল স্বজন আর উৎসুক মানুষের ছোটাছুটি। ঝুঁকি নিয়ে সাহসের সঙ্গে কাজ করেছে বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকারী দল।

লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার পৃথক শোক বার্তায় তারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে সার্বক্ষণিক উদ্ধারকাজের খোঁজখবর রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা বলেছেন, লঞ্চটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। যাত্রীবোঝাই মর্নিংবার্ডকে ঘাটে নোঙর করা ময়ূর লঞ্চটি যেভাবে আকস্মিকভাবে ধাক্কা দিয়েছে, তাকে নিছক দুর্ঘটনা বলতে নারাজ তারা। এটাকে ‘হত্যাকাণ্ডই’ বলছেন তারা। ওই লঞ্চের চালকের চরম গাফিলতি আর অবহেলার কারণে এতগুলো মানুষের প্রাণ গেছে বলে মত তাদের। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

 



সর্বশেষ সংবাদ