• এক্সক্লুসিভ
  • »
  • সুপার সাইক্লোন আম্ফান তান্ডবে ভোলায় ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি

সুপার সাইক্লোন আম্ফান তান্ডবে ভোলায় ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি

NewsBarisal.com

প্রকাশ : মে ২২, ২০২০, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা : সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তান্ডবে ভোলায় ৪ শতাধিক ঘর-বাড়ি রাস্তা ঘাট ও গাছ-পালার আশিংক ক্ষতি হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।
সাইক্লোন আম্ফান রাতভর তান্ডব চালিয়ে এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে সাইক্লোন আম্ফানস্থল নিম্মচাপে পরিনত হয়ে আরো উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গেছে। এছাড়া মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ যেসব এলাকায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ও ৯ নম্বর বিপদ সংকেত ছিল, সেটি তুলে ফেলা হয়েছে।

তার পরিবর্তে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ এই তথ্য সাংবাদিকদের জানান। আতঙ্ক আর উৎকন্ঠা কেটে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন।

সাইক্লোন আম্ফান ঝড়ে আউশ, পাট, চিনা বাদান ও সয়াবিনের কিছুটা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করলেও কৃষি বিভাগ বলছে, যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে ফসলের ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।

জানা গেছে, জেলা সদর ও চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় প্রায় ৪শতাধিক ঘর-বাড়ি ৫০ কিলোমিটার রাস্তা-খাট ও গাছ-গাছরার আশিংক ক্ষতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে ফের জোয়ারে পানিতে ফের প্লাবিত হয়েছে বাঁধের বাইরের নি¤œা লগুলো। এর মধ্যে রয়েছে চরফ্যাশনের ঢালচর, চর পাতিলা, চর নিজাম, মহাজনকান্দি, কলাতলীরচর, মদনপুরসহ বেশ কিছু এলাকা। তবে পানির চাপ কিছুটা কম।

চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়ন বাসিন্দা শাহ আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল জোয়ারে এসেছে এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়ে পুরো এলাকা তলিয়ে যাওয়ার পর আবার নতুন করে জোয়ার এসে প্লাবিত হচ্ছে এলাকা। রাতের ঝড়ে ১০/১৫টি কাঁচা ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুকরী মুকরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সভাপতি সভাপতি আবুল হাসেম মহাজন জানান, ঝড়ে কুকরী মুকরী, চরপাতিলায় ২০টি কাঁচা ঘর, মাছের ঘের, ফসলি জমি ও প্রায় ৩০ কিলোমিটার কাচাঁ রাস্তার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলার বাসিন্দা মাহাবুবুল আলম শাহীন বলেন, আম্ফানের প্রভাবে সাড়ে ৩শত ঘরসহ ২১ কি.মি কাঁচা রাস্তার আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পুকুর-ঘেরের মাছসহ ফসলি জমিরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে উপকূলীয় এলাকার সব মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। সকালে ওইসব মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছে। স্বাভাবিক হতে শুরু করছে জনজীবন।

ঝড়ে বাঁধের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমদ। তিনি বলেন, কিছু পয়েন্টে আংশিক ক্ষতি হতে পারে, তবে তার তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তা-বে জেলায় গাছ পড়ে ও ট্রলার ডুবিতে নিহত দুইজনের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচায় গাছ পড়ে ছিদ্দিক ও মেহেন্দগঞ্জলে ট্রলার ডুবিতে বোরহানউদ্দিনের রফিকুল ইসলামের পরিবারকে এ টাকা দেয় প্রশাসন।

তিনি আরও বলেন, সকাল থেকেই আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ এবং জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবারে মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হবে।

 



সর্বশেষ সংবাদ