• এক্সক্লুসিভ
  • »
  • আমতলীতে স্বাক্ষর জাল করে অধ্যক্ষ নিয়োগের পাঁয়তারা!

আমতলীতে স্বাক্ষর জাল করে অধ্যক্ষ নিয়োগের পাঁয়তারা!

NewsBarisal.com

প্রকাশ : জানুয়ারি ১৪, ২০২২, ৮:২৭ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, আমতলী : বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে অবসরে যাওয়া অধ্যক্ষ মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা মোটা অংকের টাকা নিয়ে অধ্যক্ষ নিয়োগের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জালিয়াতির এ বিষয়টি উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরগুনার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুতুবপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম মোস্তফা ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যান। তার অবসরের পরে দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মো. দেলোয়ার হোনেকে। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মো. ছাইদুর রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করলেও সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন ও ছাইদুর রহমানকে কোনো কাগজপত্র বুঝিয়ে না দিয়ে সকল কাগজপত্র তার নিজের নিকট রেখে দেন। নিজের কাছে কাগজপত্র রাখার সুবাদে অবসরে যাওয়া অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা গোপনে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইদুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে অধ্যক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তির তারিখ অনুযায়ী আজ শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় নিয়োগ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছাইদুর রহমানসহ মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষকরা অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন। স্বাক্ষর জাল করে এবং গোপন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি জানার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইদুর রহমান নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য শুক্রবার সকালে বরগুনার জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

কুতুবপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার শিক্ষক প্রতিনিধি এবং নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম শামীম জানান, অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে আমিসহ মাদরাসার কোনো শিক্ষকই জানেন না।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা কারসাজি করে আমার স্বাক্ষর জাল করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ নিয়েগের আয়োজন করেছে। নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ এবং আমার স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি।

অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এখন আর ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ নই। মাদরাসায় অধ্যক্ষ না থাকলে সে কিভাবে আরেক জনকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয় এটা আমার জানা নেই। আমার বিষয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা এবং বানোয়াট।

মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. এম এ কাদের মিয়া বলেন, মাদরাসায় একজন উপাধ্যক্ষ রয়েছেন। সকল নিয়মনীতি অনুসরণ করে অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হবে। তবে আপাতত অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, অফিস বন্ধ থাকায় অভিযোগ এখনো আমি হাতে পাইনি। অভিযোগ পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

 



সর্বশেষ সংবাদ