মাছ ধরে সংসার চালাচ্ছেন বরগুনার তিন বোন

NewsBarisal.com

প্রকাশ : নভেম্বর ২৯, ২০২১, ৬:২৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, আমতলী : বরগুনার তালতলী উপজেলার নিউপাড়া এলাকায় বড়শিতেই নির্ভর করেই চলছে তিন বোনের সংসার। খুব ছোট বয়সেই তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় স্বামীদের অভাবের সংসারের হাল ধরতে হয় ওই তিন বোনকেই। পেটের দায়ে গত ৩০ বছর পর্যন্ত নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছেন তারা। ক্ষুদা নিবারণে এভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন তিন বোন।

নদী কিংবা খালে নৌকায় বসে বড়শির ছিপ ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাছ ধরেন রাহিমা, ফাতেমা ও জরিনা নামের তিন বোন। শিকার করা সে সকল মাছ বাজারে বিক্রি করেই চলে তাদের অভাবের সংসার। তবে নদ-নদীতে দিন দিন মাছ কমে যাওয়ায় এখন কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। তবে আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার সরকারী সাহায্য ও সহযোগিতা তারা পায়নি বলে জানান তারা।

সরেজমিনে উপজেলার নিউপাড়া এলাকার গিয়ে দেখা গেছে, প্রচন্ড রোদে স্লুইসগেট সংলগ্ন নদীতে তিন বোন সারিবদ্ধভাবে নৌকায় বসে বড়শির ছিপ ফেলে মাছ পাওয়ার আশায় বসে আছেন।

কারো বড়শিতে চিংড়ি, পুটি, টেংরা, বোয়াল আবার কারো বড়শিতে ধরা পড়ে কোড়াল, রুই, পাঙ্গাশসহ নানা প্রজাতির মাছ। এসব মাছ বাজারে নিয়ে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হয়। এভাবেই প্রতিদিন একেকজন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রোজগার করেন। আবার কোন কেন দিন তাদের খালি হাতেও ফিরতে হয়।

তিন বোন জানান, ‘স্লুইস গেইট সংলগ্ন নদীতে মাছ থাকলে তাদের সংসারের সকল সদস্যর পেটে ভাত জোটে। কোন দিন মাছ না থাকলে পেটে ভাতও জোটে না। তবুও সংসার চালাতে ৩০ বছর পর্যন্ত বাবার বড়শির ছিপ ধরে আছি। ’

উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের নিউপাড়া এলাকার রাহিমা বেগমের সাথে একই এলাকায় বাদশা হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পরেই সংসারের হাল ধরেন রাহিমা বেগম। বিয়ের ১০ বছর পরে স্বামী অসুস্থ্য হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েন। তখন রাহিমা বেগম ওই নদীতে বড়শির ছিপ ফেলে মাছ ধরে তাদের ৫ জনের সংসার চালানোর দায়িত্ব নেয়। একই এলাকার সুলতান হাওলাদারের সাথে রাহিমার অপর বোন ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়।

তার স্বামীও হঠাৎ করে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তিনিও বড় বোন রাহিমার পেশাকেই বেছে নেয়। এরপর ছোট বোন জরিনা বেগমের বিয়ে হয় প্রতিবেশী খালেক মোল্লার সাথে তিনি সুস্থ থাকলেও সংসারের অভাব- অনটনে মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। কিন্তু যা আয় রোজগার করেন তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। তাই জরিনা বেগমও বড় দুই বোনের পেশাকে বেঁচে নেয়।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাওসার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমি খোঁজ- খবর নিয়ে ও বিষয়টি জেনে ওই তিন বোনকে সরকারিভাবে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করবো।

(Visited 1 times, 1 visits today)

 



সর্বশেষ সংবাদ