শেবাচিমে লুসি হল্টের শয্যা পাশে জেলা প্রশাসক

NewsBarisal.com

প্রকাশ : নভেম্বর ২০, ২০২১, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বরিশাল : বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া ব্রিটিশ নাগরিক সিস্টার লুসি হল্টকে শেবাচিম হাসপাতালে দেখতে যান জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার। আজ (২০ নভেম্বর) দুপুর ১ টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ লুসি হল্টকে দেখতে যান।

এ সময় তার চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার সিস্টার লুসি হল্ট এর সাথে তার অসুস্থতার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। চিকিৎসকের সাথে তার চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেন।

এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, সিস্টার লুসি হল্টের চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনে তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বরিশাল আল-মামুন তালুকদার, সহকারী কমিশনার সুব্রত বিশ্বাস দাস, প্রবেশ অফিসার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল সাজ্জাদ পারভেজ, হাসপাতাল সমাজসেবা অফিসার দিলরুবা রইচি, ডিবিসি নিউজ এর বরিশাল প্রতিনিধি অপূর্ব অপু উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য গতকাল ১৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে সিস্টার লুসি অক্সফোর্ড মিশনে তাঁর নিবাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে মিশনের চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সিস্টার লুসি হল্টের শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর জানান, তাঁর রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত এবং এ কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল সীমিত হয়ে একটি ছোট স্ট্রোক হয়েছে। পরে তাঁকে হাসপাতালের নারী মেডিসিন ওয়ার্ডের পঞ্চম তলার একটি কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া লুসি হল্টের বয়স আগামী ১৬ ডিসেম্বর ৯২ বছর পূরণ হবে।

তাঁর পুরো নাম লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট। তিনি স্বদেশ, স্বজনদের ভুলে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের মায়ায় এখানেই ৬০ বছর ধরে রয়েছেন। তাঁর অন্তিম ইচ্ছা, চিরকালের মতো মিশে যেতে চান বাংলার প্রকৃতিতে। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ গণভবনে ডেকে নিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেন এ দেশের নাগরিকত্ব।

তিনি বাংলা বলেন, বাঙালিদের মতো শাড়ি পরেন, বাঙালিদের সেবা করে যাচ্ছেন।সিস্টার লুসির জন্ম ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে। বাবা জন হল্ট ও মা ফ্রান্সিস হল্ট। দুই বোনের মধ্যে ছোট লুসি। তাঁর বড় বোন রুৎ অ্যান রেভা ফেলটন স্বামী ও তিন ছেলে নিয়ে ব্রিটেনেই বসবাস করেন।

লুসি ১৯৪৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক (দ্বাদশ) পাস করেন। তিনি ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। যোগ দেন বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে। এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পড়াতেন। এরপর আর দেশে ফিরে যাননি। ৫৭ বছর ধরে বরিশাল ছাড়াও কাজ করেছেন যশোর, খুলনা, নওগাঁ, ঢাকা ও গোপালগঞ্জে।

 



সর্বশেষ সংবাদ