নিত্যপণ্যের বাজারে ‍আগুন

NewsBarisal.com

প্রকাশ : নভেম্বর ৬, ২০২১, ৭:৪০ অপরাহ্ণ

নিউজ বরিশাল ডেস্ক ‍॥ বাজারে কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ছে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের দাম আরেক দফা বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধের প্রভাবে বরিশালে সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। একদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। শনিবার (৬ নভেম্বর) বরিশাল নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

নগরীর পুরানবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০, বাঁধাকপি ৫০, মুলা ৪০, ধনেপাতা ১৫০, টমেটো ১৬০ ও ফুলকপি ৬০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৭০, বরবটি ৮০, করলা ৮০, ঢেঁড়স ৮০, চিচিঙ্গা ৫০, কাঁচামরিচ ১২০-১৫০, গাজর ১৫০, শসা ৩০, পেঁপে ২৫, চাল কুমড়া ৪০, মিষ্টি কুমড়া ৩৫, পটল ৫০ ও ঝিঙে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, শীতের সবজি বাজারে এলেও দাম কমার লক্ষণ নেই।

এছাড়া শুক্রবারের চেয়ে আজ (শনিবার) দাম বেড়েছে। প্রায় সব ধরনের সবজি ৫-১০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বিশেষ হেরফের হয়নি। দাম আগের মতোই চড়া। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাজারে মাছের দামও চড়া।

মাঝারি সাইজের ইলিশ কেজিপ্রতি এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০, শিং প্রতি কেজি ৬০০-৮০০, কাতল ৩৫০ -৬০০, মাঝারি সাইজের শোল ৫৫০-৬৫০ ও ছোট সাইজের চিংড়ি ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুরান বাজারে কথা হয় অহিদুল ইসলাম নামে এক রিকশাচালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, সব জিনিসের দামই বেশি। রিকশা চালিয়ে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

এখন সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। সামনে সবজির দাম আরও বাড়বে। চোখে অন্ধকার দেখছি। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে ছেলে মেয়ে নিয়ে উপোস থাকতে হবে। বরিশাল নগরীর সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচামালের বাজার বহুমুখী সিটি মার্কেট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই এখানে ট্রাক-ট্রলার বোঝাই করে সবজি আসে। পাইকারি এ মোকাম থেকে কিনে বিভিন্ন খুরচা বাজারে বিক্রি হয়।

বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি মোকাম শাহরিয়ার বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আলী হোসেন জানান, পরিবহন ধর্মঘট হলেও শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া ও যশোর থেকে বেশ কয়েকটি সবজির ট্রাক এসেছে। পাইকারি দাম তেমন একটা বাড়েনি। তবে এখান থেকে সবজি কিনে যাওয়ার পথে পরিবহন সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে সবজির দাম হয়তো কিছুটা বাড়তে পারে।

পুরান বাজারের শ্রী হরি স্টোর মুদি দোকানের বিক্রেতা শ্যামল সাহা জানান, মুদি পণ্যে এখনো প্রভাব পড়েনি। তবে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে পরিবহন খরচ। এসব বিবেচনা করে বলাই যায়, শিগগিরই আরেক দফায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। পাইকারি আড়ত থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

 



সর্বশেষ সংবাদ