লক্ষ্যটা ছোট হলে অর্জনটাও ছোট হয়

NewsBarisal.com

প্রকাশ : নভেম্বর ৪, ২০২১, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দেশবাসীকে হতাশ করেছে। সেমিফাইনালের আগে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ ছিল। প্রথম তিনটি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে হেরে যাওয়ার পরই কার্যত বাংলাদেশের সেমিতে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চতুর্থ ম্যাচেও রীতিমতো শোচনীয় পরাজয় এড়াতে পারেনি মাহমুদুল্লাহর দল। ভালোবেসে দর্শকরা যাদের নাম দিয়েছেন টাইগার।

এই টাইগারদের সক্ষমতা কতটুকু সেই বিচার সংশ্লিষ্টরা করবেন। আমরা বিষয়টিকে দেখব তাদের নজরটার নিরিখে। সবাই জানেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে গেছে নিছকই সেমিফাইনালে পৌঁছার লক্ষ্য নিয়ে। সেভাবেই মানসিকতা গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক পরে খেলতে আসা যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের মধ্যে যে দৃঢ়তা ও লড়াকু মনোভাব দেখা যায়, টাইগারদের শারীরিক ভাষায় তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না, খেলায় তো নয়ই। এর কারণ কী কেবলই জাতিগত কোমল স্বভাব, নাকি আমাদের উপযুক্ত প্রস্তুতির অভাবÑ সেটি মনে হয় ভেবে দেখার সময় এসেছে।

আমাদের বিশ্বাস, খেলোয়াড় নির্বাচন শতভাগ যথাযথ হলে এবং শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছার জন্য যে ধরনের প্রশিক্ষণ দরকার সেগুলো নিশ্চিত করা হলে বাঙালি খেলোয়াড়দের পক্ষে জয় মোটেই অসম্ভব নয়।

বাংলাদেশের মতো শ্রীলঙ্কারও সেমিতে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। কিন্তু তারা অন্তত একটি জয় পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে নিয়ম রক্ষার শেষ ম্যাচে আমাদের ছেলেরা কতটা কী করবে; তা নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো।

এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্ন ধূলিসাতের মূল দায় বর্তেছে ব্যাটসম্যানদের কাঁধে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে শেষ খেলায় ১০ বল বাকি থাকতেই মাত্র ৮৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। পুরো খেলায় তাদের যে সার্বিক পারফরম্যান্স তাতে আবুধাবির কঠিন উইকেটকে দায়ী করার সুযোগ নেই। ২২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ধুঁকতে ধুঁকতে প্রতিপক্ষের কাছে অসহায়ভাবে উইকেট দিয়েছে। এবারের আসরে এটাই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। অধিনায়কও স্বীকার করেন, ‘টানা চার ম্যাচে হেরে যাওয়াটা সত্যিই হতাশাজনক। আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি।’

টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের ছিটকে যাওয়া মোটেই অপ্রত্যাশিত ছিল এমন নয়। যাদের লক্ষ্যই নিছক সেমিতে ওঠা, তাদের কাছে খুব বেশি আশা করা যায় কি? বাংলাদেশ দলের সাবেক একজন অধিনায়ক বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে লড়াইয়ের যে তাড়না থাকা দরকার সেটা ছিল না’।

দলের পরিকল্পনা, দল নির্বাচনে বড় ঘাটতি থাকার কথাও তিনি বলেছেন একটি দৈনিকে লেখা কলামে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় পরিকল্পনা, মানসিক প্রবণতা, জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি, দল বাছাই ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি আছে। মানসিক প্রবণতার দিক থেকে বাংলাদেশ দল সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি।

তারা সেই ২০ বছর আগের মনোভাব ধরে রেখেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যে উইকেটে বাংলাদেশ টিম প্রশিক্ষণ নেয় তা নিয়েও আছে বিস্তর আপত্তি। মিরপুরের উইকেটের কারণেই নাকি খেলোয়াড়দের মেরে খেলার সাহস, অভ্যাস কিছুই তৈরি হয়নি। বিষয়টি অনেকটা শট খেলার সামর্থ্যে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে দেয়ার মতো।

উইকেটের কারণে দল নির্বাচনও হয় টি-টোয়েন্টির আধুনিক ধারণার প্রতিকূলে। দল নির্বাচনের আগে যেকোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট শেষে কে কে সর্বোচ্চ রান করলেন সেই তালিকা দেখেন নির্বাচকরা। কে ম্যাচের কোন অবস্থায় কত স্ট্রাইক রেটে রান করলেন, সেটি বিবেচনায় আসে না।

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সমস্যার মূল ধরে ব্যবস্থা নিতে হবে। নজর উঁচু করতে হবে। কারণ, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন আর শৈশবে নেই। চূড়ান্ত লক্ষ্য যদি হয় সেমিতে পৌঁছা, তা হলে বিশ্বকাপের এভারেস্ট জয় করা সুদূরপরাহতই থেকে যাবে। বড় হওয়ার প্রবল ইচ্ছাই মানুষকে বড় করে এই বাণী অসত্য হতে পারে না।

 



সর্বশেষ সংবাদ