• এক্সক্লুসিভ
  • »
  • বিদ্যুত সুবিধায় কলাপাড়ায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান মিলেছে

বিদ্যুত সুবিধায় কলাপাড়ায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান মিলেছে

NewsBarisal.com

প্রকাশ : নভেম্বর ২, ২০২১, ৭:১৮ অপরাহ্ণ

নিউজ বরিশাল ডেস্ক ‍॥ দুই মেয়েসহ চারজনের সংসার ৩৫ বছর বয়সী রাসেলের। চার বছর আগেও রাত আটটার আগেই খেয়ে ঘুমিয়ে যেতেন। কৃষিকাজের বাইরে কিছুই করতেন না। এখন রাত ১২ টা পর্যন্ত জেগে কাজ করছেন, নিজের দোকানে।

স্ইাকেল, অটোবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন মেরামতের পাশাপাশি চাকায় হাওয়া দেয়ার কাজ চলে তার দোকানে। এখন তার কর্মঘন্টা বেড়েছে। প্রায় পাঁচ ঘন্টা বেশি কাজ করছেন। বেড়েছে উপার্জনও। চম্পাপুরের বাংলাবাজার এলাকায় রাসেলের মতো আরও ২৫-৩০ দোকানির এখন বেড়েছে বেচা-কেনা। বেড়েছে কর্মঘন্টা। ঘরে ঘরে বিদ্যুত আর রাস্তাঘাটের উন্নয়নের এসব মানুষের পেশায় উন্নতি হয়েছে। হয়েছে পরিবর্তন। যেন দিন বদলের পালে হাওয়া বইছে। সন্ধার পরে ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকা এইসব জনপদে এখন মধ্যরাত পর্যন্ত দোকানপাটে বিদ্যুতের আলোয় হাট-বাজার থাকছে আলোকিত।

বাড়িঘরের সামনেও জ্বলে বিদ্যুতের আলো। রাস্তার হাট-বাজারে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি দোকানপাটে চলে বেচাকেনা। চায়ের তৃষ্ণা মেটানোর জায়গায় কফির আড্ডা বসে। ডিসের বদৌলতে দেখেন দেশ-বিদেশের খবরা-খবর, আগে খবর শুনতেন। আর এখন দেখেন। সাগরপারের কলাপাড়া উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন আর দুই টি পৌরসভার ২৪৭টি গ্রামের দৃশ্যপট এক। যেখানেই পাকা সড়ক রয়েছে সেখানের হাঁট-বাজার আর গ্রোথ সেন্টারকে ঘিরে বসেছে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট।

মানুষ তাঁদের সকল নিত্যপণ্য বাড়ির কাছেই পাচ্ছেন। তেগাছিয়া, বাবলাতলা বাজার এলাকা দশ বছর আগেও ছিল অনগ্রসর জনপদ। সবগুলোর একই দৃশ্যপট। মানুষ খালি পায়ে হেটে আসত বাজারে। এখন অটোবাইক কিংবা মিশুকে চড়েই কাছের বাজারটিতে চলে যাচ্ছেন। এসব বাজারে কী নেই। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক কোম্পানির শো-রুম পর্যন্ত বসেছে। টিভি-ফ্রিজ পর্যন্ত বেচা-কেনা চলছে। হয়েছে চিকিৎসা সেবার ক্লিনিক। বসছে এমবিবিএস চিকিৎসক। মানুষ যেন গ্রামেই পাচ্ছেন শহরের সেবা।

গবাদিপশু পালনে আগে সোলার বাতি দিতে হতো। এখন কারেন্টের বাতি দেন। ফ্যানের ব্যবস্থাও থাকছে। এ ছাড়া কৃষিতে পোকামাকড় দমনের জন্য বিদ্যুত খুব ভালো কাজে আসছে।

যেখানে একটি পুকুরে মাসে এক মন খাবার লাগত, সেখানে এখন লাগছে ১০-১৫ কেজি। যেন মানুষ বিদ্যুতের আলোয় নিজের জীবিকার অন্ধকার পথে আলো দেখছেন। মানুষটির গড়ে আগের চেয়ে প্রতিদিন ৪/৫ ঘন্টা কাজ বেড়েছে।

কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুত সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানালেন কলাপাড়ায় ২০০৮ সাল পর্যন্ত আবাসিক গ্রাহক ছিল নয় হাজার। যা বর্তমানে ৫৭ হাজারে পৌছেছে। বেড়েছে ৪৮ হাজার। এভাবে বাণিজ্যিক গ্রাহক বেড়েছে ছয় হাজার দুই শ’, ছিল ১৯ শ’। আর ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১১০টি, যা ছিল মাত্র ৪০টি।

 



সর্বশেষ সংবাদ