• এক্সক্লুসিভ
  • »
  • দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্পনা খাতুনের ভিক্ষার টাকায় চলে ৫ সদস্যের পরিবার

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্পনা খাতুনের ভিক্ষার টাকায় চলে ৫ সদস্যের পরিবার

NewsBarisal.com

প্রকাশ : অক্টোবর ২৪, ২০২১, ৮:১৬ অপরাহ্ণ

নিউজ বরিশাল ডেস্ক ‍॥ শারীরিক প্রতিবন্ধী আশরাফ আলীর (৬০) বাড়ি কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছি ইউনিয়নের উত্তর সিতাইঝাড় গ্রামে। স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস তার। এক মেয়ে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী। স্বামী চিকিৎসা ও সন্তানদের ভরন-পোষণে বাধ্য হয়ে পথে নামতে হয়েছে আঞ্জু বেগমকে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে ভিক্ষা করে সংসার চলে তার।

আশরাফ-আঞ্জু দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে আলপিনা খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন ধার-দেনা করে। সে টাকা এখনো শোধ করতে পারেননি। ছেলে আতাউল লেখাপড়া করছে। প্যারালাইজড আশরাফ আলীর সংসারের হাল ধরে অন্ধ মেয়ে কল্পনা খাতুন।

অসহায় এ পরিবারের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়াননি কেউ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও মেলেনি ভাতার কার্ড। পরে ভিক্ষার জমানো এক হাজার ৫০০ টাকা দিলে একটি ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা হয়। সে টাকা দিয়ে আশরাফ আলীর চিকিৎসা ও পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় গৃহবধূ আপিয়া ও মমিনা জানান, দীর্ঘদিন থেকে আশরাফ আলী প্যারালাইজড হয়ে পড়ে থাকায় তার স্ত্রী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে ভিক্ষা করেন। সারা দিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে সামান্য ভিক্ষা পান তা দিয়ে সংসার চালানোই সম্ভব হয় না। এ পরিবারকে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

এ বিষয়ে আঞ্জু বেগম জানান, স্বামী পঙ্গু। কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। ১৬ বছর ধরে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে ভিক্ষা করে আসছি। আমাদের কোনো সহায় সম্পদ নেই। ভিক্ষা করে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্পনা খাতুন জানান, ছোট বেলা থেকেই মায়ের সঙ্গে ভিক্ষা করে সংসার চালিয়ে আসছি। এখন বড় হয়েছি বলে ভিক্ষা করতে লজ্জা লাগে। আমার পরিবার যদি সরকারি সহায়তা পান তবে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেব।

আশরাফ আলী বলেন, এক বছর ধরে কাগজপত্র নিয়ে মেম্বার-চেয়ারম্যানের পেছনে ঘুরেও প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা হয়নি। পরে মেয়ের ভিক্ষা করে জমানো এক হাজার ৫০০ টাকা দিলে চেয়ারম্যান দ্রুত ভাতার ব্যবস্থা করে দেন।

পাঁচগাছি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুরো পাঁচগাছি ইউনিয়নে এমন কোনো ক্লেইম নেই আমার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো টাকা নিইনি। ওই পরিবারকে আমরা ভিজিডি কার্ড ও রেশন কার্ড দিয়েছি তারা সে সুবিধা ভোগ করছে।

 



সর্বশেষ সংবাদ