শিক্ষক পরিচয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের ভয়ঙ্কর প্রতারণা

NewsBarisal.com

প্রকাশ : মার্চ ১০, ২০২১, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : বরিশালে ব্যক্তিগত নাম্বারের বিকাশের অর্থ নানান কায়দার কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। গড়ে ওঠা চক্রটি এজেন্টসহ বিভিন্ন ধরণের কৌশলেপন্থায় বিকাশের পিনকোড নাম্বারগুলো চুরি করে। এবং কলেজে পড়ুয়া ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা দেয়ার কথা বলে কলেজের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে নাম ও রোল নাম্বার সংগ্রহ করা হয়।

অত:পর কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ব্যক্তিগত সেলফোনে (কলেজে যে নাম্বার দেয়া) কলেজ শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বলা হয়- তোমার নাম এটা, আর নাম্বার কী এটা? চক্রের সদস্যদের ফোনে বলা শিক্ষার্থীর নাম রোল নাম্বারও মিলে যায়। এরকম প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থী তাৎক্ষনিক হ্যা বলে যে এটাই আমার নাম এবং রোল নাম্বার। পরবর্তীতে উপবৃত্তির দুই বছরের টাকা শিক্ষার্থীর বিকাশ নাম্বারে দেয়ার কথা বলে। একইসঙ্গে বলেন, তোমার নাম্বারে তো টাকা যাচ্ছে না।

সেক্ষেত্রে তুমি ২৪ হাজার ৫’শ টাকা তোমার মোবাইলের বিকাশে ইন করালে উপবৃত্তির ১৫ হাজার টাকা পেয়ে যাবা। চক্রের কৌশলী ফাঁদে পড়ে শিক্ষার্থীরা এজেন্ট থেকে ব্যক্তিগত বিকাশ নাম্বারে টাকা ইন করার কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রতারক চক্রের নাম্বারে ক্যাশ আউট হয়ে যায়। এরকমই একটি ঘটনা ১০ মার্চ বুধবার বিকেলে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের এক ছাত্রীর ক্ষেত্রে ঘটেছে। কলেজ ছাত্রী সূত্র জানায়-প্রতারণা চক্রটি বিকাশের ১৫ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে।

১০ মার্চ বুধবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে নলছিটির আমিরাবাদ বাজারের জেনারেল স্টোর নামের বিকাশ এজেন্ট থেকে ওই ছাত্রী তার মোবাইল নাম্বারে ১৫ হাজার টাকা ক্যাশ ইন করেন। ছাত্রী এ্যাকাউন্ট চেক করে ক্যাশ ইনের ১৫ হাজার টাকা আসার বিষয়টি নিশ্চিতও হয়। কিন্তু কয়েক মিনিটের মাথায় বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ছাত্রীর বিকাশ এক্যাউন্ট চেক করতে গিয়ে দেখেন ক্যাশ ইন করা ১৫ হাজার টাকা অপর একটি বিকাশ মোবাইল নাম্বারে ক্যাশ আউট করে প্রতারক চক্রটি।

ক্যাশ আউট করা প্রতারক চক্রের নাম্বারটি হলো ০১৬১০৪৭৭১৫৯। এরআগে বুধবার দুপুরে চক্রটি কলেজ ছাত্রীকে ফোন দিয়ে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ এর শিক্ষক আসাদুজ্জামান স্যার পরিচয় দিয়ে বলেন, উপবৃত্তির ২৪ হাজার টাকা তোমার মোবাইল নাম্বারে এজেন্ট থেকে বিকাশে ইন করলে কলেজের উপবৃত্তির ১৫ হাজার টাকাও বিকাশে আসবে। নির্ধারিত অর্থ তোমার বিকাশে না ইন করালে উপবৃত্তির টাকা যাবে না।

কলেজ ছাত্রী স্যারের পরিচয়ে সরলমনে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার আমিরাবাদ বাজারের জেনারেল স্টোরের বিকাশ এজেন্ট নাম্বার থেকে নিজের ব্যক্তিগত বিকাশ নাম্বারে ১৫ হাজার টাকা ইন করে। কিছুক্ষন পর ইন করা ১৫ হাজার টাকা প্রতারক চক্র ক্যাশ আউট করে নিয়ে যায়। নলছিটির আমিরাবাদ বাজারের জেনারেল স্টোরের বিকাশ এজেন্টের ০১৭৭৩২৭০২৬২ নাম্বার দিয়ে ছাত্রীর বিকাশ নাম্বারে ক্যাশ ইন করা হয়।

এসব বিষয়ে মহিলা কলেজের শিক্ষক আসাদুজ্জামানের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি বলেন, কলেজ থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে উপবৃত্তির টাকা দেয়া হয়নি। আর এভাবে ফোন দিয়ে ছাত্রীদের বিকাশ নাম্বারে টাকা ইন করলেই যে উপবৃত্তির টাকা পেয়ে যাবে, এরকম বিষয়টি কলেজ থেকে বলা হয়নি। যে নাম্বার থেকে ক্যাশ আউট করা হয়েছে, ওই নাম্বারটি আইডেন্টিফাই করতে হবে।

এজন্য আইনগতপন্থায় গিয়ে নাম্বারটি ট্রাকিংয়ের ব্যবস্থা করে চক্রের সদস্যদের চিহৃিত করে আইনের আওতায় আনাটা অত্যাবশ্যাক। ক্যাশ আউটের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্রের ০১৬১০৪৭৭১৫৯ নাম্বারে এ প্রতিবেদক ফোন দিলে প্রথম একজন রিসিভ করেন। এই নাম্বারে ক্যাশ আউটে অর্থ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন,

কিভাবে কোন নাম্বারে ক্যাশ আউট হয়েছে। এরপর আরেকজনকে ফোনটি ধরেন। গণমাধ্যমের কর্মী পরিচয় দিয়ে তার কাছে ক্যাশ আউটে অর্থ তুলে নেয়ার বিষয় জানতে চেয়ে প্রতিবেদক তাদের ঠিকানা-অবস্থান জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে বলে এটা বরিশাল। বরিশাল কোথায় এমন প্রশ্নে চক্রের সদস্য বলেন, এটা ঝালকাঠি। এরপরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সেলফোনটি বন্ধ করে রাখে।

 



সর্বশেষ সংবাদ