বরিশাল জেলায় তৈরি হবে “বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ”

NewsBarisal.com

প্রকাশ : জানুয়ারি ১৬, ২০২১, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ

নিউজ বরিশাল ডেস্ক ।।

গ্রাম থেকে শহরমুখী স্রোতকে হ্রাস করার পাশাপাশি আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত গ্রামীণ জীবনযাপনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে বরিশাল জেলায় তৈরি হবে “বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ”। যেখানে থাকবে শহরের সব সুবিধা। গ্রামের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত গ্রামীণ জীবনযাপনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে “বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ” প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গণমুখী সমবায় ভাবনার আলোকে “বঙ্গবন্ধু মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা পাইলট”র আওতায় এই মডেল গ্রামগুলো প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০টি গ্রামের মানুষ শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই ১০টি গ্রামের তালিকায় বরিশাল জেলার যেকোনো উপজেলায় হবে এই একটি গ্রাম।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সদ্য সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমান বরিশালের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জনকণ্ঠকে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সমবায় অধিদফতর “আমার গ্রাম-আমার শহর” ধারণায় গ্রামের বৈশিষ্ট্য সমুন্নত রেখে ইতোমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ’ প্রকল্পের প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। দেশের ১০ জেলার ১০ উপজেলার ১০ গ্রামের গড়ে পাঁচ হাজার জন করে মোট ৫০ হাজার মানুষ এ প্রকল্পটির উপকারভোগী হবেন। এই ১০টির তালিকায় রয়েছে বরিশাল জেলা।

সূত্রমতে, সদ্য বিদায়ী বছরের (২০২০) নবেম্বর মাসে ৪৯ তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে এসব মডেল গ্রাম গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই নির্দেশের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এই মডেল গ্রাম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি এই প্রকল্পের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা করেছে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

পিইসি সভার কার্যপত্রে দেখা গেছে, এই প্রকল্প দেশের আট বিভাগের নির্বাচিত জেলাগুলোয় বাস্তবায়ন করা হবে। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও টাঙ্গাইল জেলা রয়েছে। ময়মনসিং বিভাগের জামালপুর, চট্টগ্রামের কুমিল্লা, সিলেটের সুনামগঞ্জ, খুলনার যশোর, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সমবায় অধিদফতরের যুগ্ম নিবন্ধক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিক উপলক্ষে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। কারণ দেশের উন্নয়নের বড় অংশ হচ্ছে গ্রাম। প্রধানমন্ত্রী আগেও বলেছিলেন, শহরের সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথমে ১০টি গ্রামকে মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলবো। সফল হলে দেশব্যাপী বড় আকারে প্রকল্প নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শহরের মতো না হলেও যেন শহরের কাছাকাছি পর্যায়ের সব সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পৌঁছাতে পারি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা করা হবে। সূত্রমতে, দেশে এখনো ৬০ভাগ লোক কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন বহুলাংশে পল্লী উন্নয়নের ওপর ভরসা করতে হয়। বঙ্গবন্ধুও কৃষি এবং পল্লী উন্নয়নকে সামগ্রীক উন্নয়নের মূলশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। সে লক্ষ্যে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সেই আলোকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে সমবায় অধিদফতর ‘আমার শহর আমার গ্রাম’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পেও গ্রামের বৈশিষ্ট্য সমুন্নত রেখে সম্পদের সুষ্ঠু ও সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষির আধুনিকায়ন-যান্ত্রিকীকরণ এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও বাজার অবকাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের ডিপিপিতে দেখা গেছে, প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে, ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদনের পর প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সমবায় অধিদপ্তর।

সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে ১০টি গ্রামের কৃষি খাতে ২৫ শতাংশ কৃষি উৎপাদন বাড়ানো হবে। মধ্যম আয়ের দেশ থেকে পর্যায়ক্রমে উন্নত দেশের মর্যাদার সাথে সামঞ্জপূর্ণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে ১০ গ্রামের ১০ হাজার লোককে দক্ষভাবে গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হবে।

সূত্রমতে, প্রত্যাশিত আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনিয় টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে ১০টি সমবায় সমিতি গঠণসহ প্রায় ৫ হাজার ৬০০ বর্গফুটের ১০টি কমিউনিটি ভবন নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর আর্দশের ১০টি গ্রাম সমবায় সংগঠিত করা, কৃষি উৎপাদনের যান্ত্রিক ও উত্তম পদ্ধতির প্রচলন করা, ১০টি গ্রামে দুইটি এক একর পুকুরে মৎস্য চাষ ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুইটি গরু পালনের মাধ্যমে আধুনিক ও উত্তম পদ্ধতির প্রচলন, গ্রামীণ সামাজিক প্রতিষ্ঠানসগুলোকে পুনর্জাগরণ এবং গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার কমানোর লক্ষ্যে কাজ করা।

এ বিষয়ে বরিশালের কৃতি সন্তান বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ জনকণ্ঠকে বলেন, প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে পিইসি সভাসহ অনুমোদনও তাড়াতাড়ি হবে। পাইলটিংয়ে সফল হলে প্রকল্পটি দেশব্যাপী বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামের সাথে শহরের দূরত্ব অনেক কমবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পিইসি সভায় প্রকল্পটির ওপর পরিকল্পনা কমিশন মত দিয়ে বলেছে, প্রকল্পের উদ্দেশ্যে ১০টি সমবায় সমিতি গঠণ ও পাঁচ হাজার ৬০০ বর্গফুটের ১০টি কমিউনিটি ভবন নির্মাণের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যা উদ্দেশ্যের পরিবর্তে প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত কাজ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

প্রস্তাবিত ডিপিপিতে অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ১০টি কমিউনিটি ভবন নির্মাণে আট কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ভবনগুলো নির্মাণে এক বিঘা করে জমির প্রয়োজন। দুই তলাবিশিষ্ট ১০টি কমিউনিটি ভবনের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণে বিল অব কোয়ানটিটি ধরে নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। স্যানিটারি, বৈদ্যুতিক কাজ, রাস্তা নির্মাণ, সীমানা প্রাচীরের ব্যয় প্রাক্কলন একইভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরদিকে ‘গ্রাম হবে শহর’ প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা মতে ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগের স্থানীয় সরকারের অসংখ্য জনপ্রতিনিধিদের আপ্রান চেষ্ঠায় ইতোমধ্যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রামকে শহরে পরিনত করার জন্য সরকারী সম্পদের শতভাগ সুষম বন্টন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, শতভাগ ভিক্ষুক মুক্তকরন, শতভাগ বাল্যবিবাহ রোধ, শতভাগ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত, বৃক্ষ রোপন, মাদক র্নিমূল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, কৃষকদের সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান, পরিচ্ছন্ন হাট-বাজার, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিতে অগ্রগতি, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে অপরাধ প্রবনতা কমিয়ে আনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠণ এবং বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়নে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে সম্পূর্ণ রূপে বদলে গেছে বরিশালের একসময়ের অবহেলিত এলাকাগুলো।

এরমধ্যে সবচেয়ে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ও দুইবার বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন গৌরনদী উপজেলার একমাত্র ডিজিটাল মাহিলাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও করোনার সম্মুখ যোদ্ধা সৈকত গুহ পিকলু। তিনি (পিকলু) জনকণ্ঠকে বলেন, আগামীতে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হতে পারলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সহযোগিতায় বাকি অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। এরমধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের “গ্রাম হবে শহর” শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।

পাশাপাশি কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপনের হস্তক্ষেপে পাল্টে যেতে শুরু করেছে ওই ইউনিয়নের পুরনো অবহেলার দৃশ্যপট। ফলশ্রুতিতে ইউপি চেয়ারম্যান রিপন পরপর ছয়বার জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে পদক লাভ করেছেন। মুজিব আদার্শের সৈনিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন জনকণ্ঠকে বলেন, উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে অচিরেই পুরো ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করা হবে।

সূত্রমতে, ২০১১ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদ হোসেন রিপন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রামকে শহরে পরিনত করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এ ইউনিয়নের কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, দারিদ্রমুক্তি, বাল্যবিবাহ মুক্ত, মাদক র্নিমূল ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ইউপি চেয়ারম্যান রিপন নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়ন ও সরকারী সম্পদের সুষম বন্টনের মাধ্যমে পুরো ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রামকে শহরে পরিনত করার জন্য গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। যার সুফলভোগ করছেন এলাকার বাসিন্দারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রামকে শহরে পরিনত করার জন্য গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করেছেন সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন। তার (হারুন) ঐক্লান্তিক প্রচেষ্ঠায় দীর্ঘদিনের ভাগ্যবঞ্চিত রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলাবাসী উন্নয়নের জোয়ারের ভাসছেন। তার পরিকল্পনায় দুই উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি ঢাকার সাথে সড়ক পথে বামনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের দূরত্ব কমে এসেছে। সাংসদ বজলুল হক হারুন জনকণ্ঠকে বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলাকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করা হবে। গ্রামগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শহরের রূপান্তর করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সমবায় সমিতি গঠণ:

“বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ” প্রকল্পে নির্বাচিত গ্রামের সব শ্রেণী ও পেশার জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রাম সমবায় সমিতি গঠণ করা হবে। সমিতিকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কমিউনিটি ভবন নির্মাণ করা হবে। কমিউনিটি ভবনে বঙ্গবন্ধু পাঠাগার ও বঙ্গবন্ধু কর্নার, কমিউনিটি হল, সমিতির অফিস, সভাকক্ষ, কম্পিউটার কেন্দ্র ও ডিজিটাল সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কেন্দ্র, বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি রাখার গোডাউন, সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

গ্রামে যেসব পরিবর্তন আসবে:

“বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ” প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামের প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদের আওতায় আসবে অর্থাৎ এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না। রাস্তার ধার, নদীর পাড়, মাঠ এবং বাড়ির আঙিনায় আবাদ করা হবে। কোনো পুকুর মাছ চাষহীন থাকবে না। যৌথ পদ্ধতিতে চাষাবাদ হবে। কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহারের প্রচলন থাকবে। পরিবেশবান্ধব ও পানিসাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থা থাকবে। কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের পরিমিত ব্যবহার থাকবে এবং জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার অনুশীলন করা হবে। কৃষি বহুমুখীকরণ চর্চা থাকবে। কৃষিপণ্যের বাজার নেটওয়ার্ক থাকবে। ফসলের সময়ের বাইরে (অফ-সিজন) কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পশুপালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কুটি শিল্পের পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সদ্য সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমান বরিশালের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার জনকণ্ঠকে বলেন, বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর গ্রামীণ অতিদরিদ্র ৬ শতাংশে নেমে আসবে। গ্রামে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। থাকবে না মাদক গ্রহণকারী ও মাদক কারবারি। নিষিদ্ধ থাকবে বাল্যবিয়ে ও যৌতুক প্রথা। বিরোধ নিস্পত্তি করা হবে সালিশ-মীমাংসার মাধ্যমে। যেকারণে কমে যাবে মামলা মোকদ্দমার হার।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, গ্রামের লোক পাবে শতভাগ চিকিৎসা সুবিধা। স্কুলে ভর্তির হার শতভাগ এবং ঝরে পড়ার হার কমবে উল্লেখযোগ্য হারে। নারীর প্রতি সহিংসতা থাকবে না। কোনো শিশু ও নারী পুষ্টিহীন থাকবে না। থাকবে ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা। গ্রামের জনগণ তথ্যপ্রযুক্তিগত সুবিধা লাভ করবে। জনগোষ্ঠী উজ্জীবিত থাকবে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ধুদ্ধকরণের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি ফিরিয়ে আনা হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে শতভাগ পরিবেশবান্ধব গ্রাম হিসেবে আবির্ভূত হবে “বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ” প্রকল্পভুক্ত গ্রাম।

 



সর্বশেষ সংবাদ