• বরিশাল
  • »
  • সভ্য আইন আর সভ্য প্রথাই জনগোষ্ঠীকে সভ্য করে তোলে

সভ্য আইন আর সভ্য প্রথাই জনগোষ্ঠীকে সভ্য করে তোলে

NewsBarisal.com

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২০, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
আহমেদ জালাল : ধর্ষণ, ধর্ষণ শেষে হত্যা,নারীর প্রতি সহিংসতার অপরাধ বেড়ে যাওয়ার হেতু? এহেন বর্তমান পরিস্থিতি কেন? তাহলে সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে না পারার কারণগুলোই কী র্বতমান পরস্থিতিতির জন্য দায়ী? সাম্য,
মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার ছাড়া স্বাধীনতা হয় না, হয় শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর।
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে অঙ্গীকার করা হয়েছিল-স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্য,মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
কিন্তু এসব অঙ্গীকার কী পূরণ হয়েছে? প্রশ্ন হচ্ছে-মৃত্যুদন্ড আর ক্রসফায়ার কী সমাজের অপরাধ কমাতে পারে? নাকি ক্রমশ: অপরাধ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে? মূলত: সভ্য আইন আর সভ্য প্রথাই একটা সমাজ, দেশ ও জনগোষ্ঠীকে সভ্য করে তোলে।
আর অসভ্য আইন এবং অসভ্য প্রথা আজীবন অসভ্য করেই রেখেছে। ‘মৃত্যুদন্ড’ আর ‘ক্রসফায়ার’ কী সভ্য সমাজ বির্নিমাণে দেশ তথা জনগোষ্ঠির মাপকাঠির নিয়ামক শক্তি হতে পারে?
ধর্ষণ পৈশাচিক ধরণের অপরাধ। এমন অপরাধ সমাজে একের পর এক ঘটতে থাকলে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে।
শিশু, প্রতিবন্ধী, ছাত্রী, কর্মজীবী গৃহবধূসহ নির্বিচার ধর্ষণের ঘটনায় অনেকের তাই হয়েছে। বাংলাদেশের নারীরা শুধু ধর্ষণেই রেহাই পায় না; প্রচারমাধ্যমের অসতর্কতা তাদের নতুন সমস্যায় ফেলে, বিচারহীনতার কষ্ট তাঁকে প্রতিদিন সহ্য করতে হয়, অনন্তকাল ধরে শিকার হতে হয় বিভিন্নভাবে সামাজিক নিগ্রহের।
ধর্ষণের বা যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। যারা বেঁচে থাকে, তাদের স্বাভাবিক সত্তারও মৃত্যু ঘটে। ধর্ষিতার পরিবার আর স্বজনদের ভেতর থাকে একই ধরণেরর অনুভূতি।
সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক খুললে দেখা যাবে ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করছেন অনেকে। এসব দাবি গ্রহণযোগ্য অগ্রহণযোগ্য নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। পক্ষে বিপক্ষে মত আছে। যাঁরা ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে, তাঁরা মূলত ডেটারেন্ট থিওরি অব পানিশমেন্টের কথা বলেন।
এই মতবাদ অনুসারে সবচেয়ে কড়া শাস্তি দেওয়া হলে ভয়ে কেউ আর সেই অপরাধ করেন না। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় খুনের অপরাধে। শুধু মৃত্যুদণ্ড দিয়ে অপরাধ কমাতে পারলে খুনখারাবি,ধর্ষণ কমে যাওয়ার কথা।
তা কী হয়েছে? কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ অবাক করার বিষয় হচ্ছে-এমন দাবি যখন আসে রাষ্ট্রের আইনসভার সদস্যদের কাছে থেকে। এটা উন্মাদনার পর্যায়ে চলে যায় যখন তাঁরা বিচার করে মৃত্যুদণ্ড নয়, বিচার ছাড়াই ক্রসফায়ারে মেরে ফেলতে বলেন সন্দেহভাজন ধর্ষককে। আইনপ্রণেতারা যেভাবেই নির্বাচিত হন না কেন, তাঁদের সংবিধান রক্ষার শপথ গ্রহণ করতে হয়।
সংবিধানে বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদ (যেমন ২৭,৩১, ৩৫) অনুসারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম বা ক্রসফায়ার সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যাঁরা ক্রসফায়ারের দাবি তুলছেন, তাঁরা সংবিধান লঙ্ঘনকে উৎসাহিত করে সংবিধানেরই ৭ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ করছেন বলা যায়।
ক্রসফায়ারের দাবিটি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। সব গুম, খুন, ক্রসফায়ারে হত্যা বন্ধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জাতি স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়। চায় জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ। আইনের সঠিক প্রয়োগ না হলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা, ন্যায়নীতি বলতে কিছুই থাকবে না।
আইনকে আপন গতিতে চলতে দিতে হবে। তার অপব্যবহার কাম্য নয়। জনগণকে জীবনের নিরাপত্তা আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া একদিকে যেমন উন্নত জাতির পরিচায়ক, অন্যদিকে আবার জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে নারী-পুরুষের সমতার জন্য পুরুষদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পরিত্যাগ করতে হবে। এটা স্বাভাবিক যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এ দৃষ্টিভঙ্গি থাকবেই। সমাজের কাঠামো বদল না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যা চলতেই থাকবে।
আদিম সমাজ থেকে কৃষিভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলো, তখনো কৃষিতে নারী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখল। পরবর্তীতে পুঁজিবাদ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলো। এখনো অনেক ক্ষেত্রেই নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের প্রয়াস চলছে। নারী-পুরুষের সমতার লড়াই কিন্তু নারীর একার নয়।
এটা সমাজের লড়াই, দৃষ্টিভঙ্গির লড়াই। নিছক অঙ্গীকার নয়; নিজের জীবন, পরিবার ও সমাজে নিজের সামর্থ্যের মধ্য দিয়ে পুরুষ প্রজন্ম নারী প্রজন্মের পাশে দাঁড়াবে। নারী ও পুরুষ প্রজন্ম মিলেই গঠন করবে সাম্য,মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের সমাজ ব্যবস্থা।
একটি দেশ স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, নারী-পুরুষের সমান অধিকার, মানুষের নাগরিক অধিকার আর মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে না পারার চরম ব্যর্থতার কারণেই সমাজে নানা ধরণের অপরাধের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলছে। এরফলে মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা শুধুই অন্ধকার গলিতেই হাবুডুবু খাচ্ছে।
—————————-
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান, রণাঙ্গণের মুখপত্র ’দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’।

 



সর্বশেষ সংবাদ
মহিপুরে শান্তি পূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু মেহেন্দিগন্জ কাজিরহাট থানার ধর্ষণ মামলার আসামী ঢাকা থেকে গ্রেফতার মুলাদীতে চলছে মা ইলিশ ধরার মহা উৎসব; নিরব প্রশাসন মহিপুরে ইউপি নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে ভয়-ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা ভুয়া ফেসবুক একাউন্টে মাধ্যমে সাংবাদিকের নামে অপপ্রচার টিসিবির মাধ্যমে ২৫ টাকা দরে আলু বিক্রির সিদ্ধান্ত পটুয়াখালীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার আসামী সাথে নিয়েই মামলার তদন্ত করছেন তালতলী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোলাম সরোয়ার বরিশালে আলু ৪০ টাকা দরে বিক্রি করায় দুই আড়তকে ১০ হাজার জরিমানা ঈদে মিলাদুন্নবী ৩০ অক্টোবর