• বরিশাল
  • »
  • উজিরপুর আওয়ামীলীগে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অসোন্তষ

উজিরপুর আওয়ামীলীগে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অসোন্তষ

NewsBarisal.com

প্রকাশ : নভেম্বর ৭, ২০১৯, ১০:১০ অপরাহ্ণ

উজিরপুর প্রতিনিধি ॥ বরিশালের উজিরপুরে আসন্ন উপজেলা আওয়ামীলীগের সন্মেলন ও চলমান ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নেতা কর্মীরা। বিগত দিনের চাপা কোন্দল প্রকাশ্যে রুপ নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিজ্ঞ মহলের ধারণা দলীয় আভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপজেলার আওয়ামী রাজনীতির। তাহলে কোন পথে হাটছে উজিরপুর আওয়ামীলীগ ? কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঘোষণা অনুযায়ী তৃনমুলে থেকে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হবার পর দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করছে। ওয়ার্ড কমিটিতে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন, হাইব্রিড নেতাদের ওয়ার্ড কমিটিতে স্থান পাওয়া, বিগত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করা, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি বহাল রেখে প্রভাব বিস্তার করে কমিটি গঠনে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

আর এই দ্বন্দ্বের মূল কারন হিসেবে জেলা ও উপজেলার সিনিয়র নেতাদের কোন্দলকে দ্বায়ী করেছেন অনেক তৃনমুল সাধারণ কর্মীরা। সুত্র থেকে জানাগেছে উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ ইউনুছ ও সাবেক উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দ্বন্দ্বের শুরু হয়, সাংসদ ইউনুছ ইকবালকে মোকাবেলার জন্য উজিরপুরে নিজস্ব বলয় তৈরির চেষ্টা চালায়, ঢালাও ভাবে বিভিন্ন দলের লোক দলে জয়েন করিয়ে তার (ইউনুস) অনুসারী বানায়।

আর ওই ঘটনার মুল কারীগর হিসেবে কাজ করে সাংসদের তৎকালীন পিএস পার্শ্ববর্তী গৌরনদীর বাসিন্দা আবু সাঈদ রাঢ়ী। থেমে থাকেনি ইকবাল সে সময় উপজেলা আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতাদের সমন্বয়ে একটি বলয় তৈরি করে নিরব মল্ল যুদ্ধ চালিয়ে যান। স্থানীয় আওয়ামীলীগের একটি অংশ ইকবাল অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত হয়। ইকবাল সমর্থক জল্লা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত হালদার নান্টু হত্যাকা-ের পর মিডিয়ার সামনে সাবেক সাংসদ ইউনুছের বিরুদ্ধে ইকবাল বিষোদাগার করলে ইকবাল -ইউনুছ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে সামনে আসে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তালুকদার মোঃ ইউনুছ দলীয় মনোনয় লাভে ব্যর্থ হলে সাবেক ছাত্রনেতা শাহে আলম নৌকা প্রতীক পেয়ে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সান্টুকে হারিয়ে বিজয়ী হন। ওই সময় মনোনয়ন না পাওয়ার জন্য ইউনুছ পন্থীরা ইকবালকে দ্বায়ী করে । পরে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে হাফিজুর রহমান ইকবাল দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ ইউনুছের বিরোধীতার কারণ হিসেবে মনে করেন তার অনুসারীরা। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আঃ মজিদ শিকদার বাচ্চু দলীয় টিকিট পেয়ে যায়, ইকবাল মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের তার অনুসারীরা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে গেলে বহিষ্কারের খড়গ মাথায় নিয়ে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে সমর্থন জুগিয়ে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলে, ভোটে করা কৌশলে হেরে যায় ইকবাল ফলে উপজেলার রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে পঙে তার সমর্থকরা। তৈরি হয় বর্তমান এমপির অনুসারী, আগের মত উপজেলার বিভিন্ন কর্মকান্ডে বর্তমান এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান একসাথে দেখা যায়না।

সব কিছুকে ছাপিয়ে কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হলে নঙেচঙে বসে সব নেতাকর্মীরা কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উৎসবমুখর পরিবেশে উপজেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের ৮১ ওয়ার্ডে তেমনটা ঘটেনি। উপজেলার বর্তমান কমিটি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তাদের অনুসারীদের দিয়ে ওয়ার্ডে পকেট কমিটি করার অভিযোগ রয়েছে। অধিকাংশ ইউনিয়নে তরিঘরি করে ওয়ার্ড থেকে নামের লিষ্ট নিয়ে কমিটি করার পাঁয়তারা ওয়ার্ডে সভাপতি সম্পাদক নির্বাচন করে বাকিদের নিজেদের ইচ্ছামত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, একাধিক সুত্র থেকে জানা গেছে উজিপুরের কোন ইউনিয়নে বা ওয়ার্ডে এখনো পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি।

অনেক ওয়ার্ড কমিটিতে হাইব্রিড, মাদক সেবি, মামলার আসামিদের অন্তর্ভূক্ত করার খবর পাওয়া গেছে। আর এসব কারনে তৃনমুলের নেতা কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ। সাতলা শিবপুর ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ হারুন অভিযোগ করে বলেন আজ ওয়ার্ড কমিটি করার কথা থাকলেও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ শুধু নামের লিষ্ট নিয়ে গেছে পরবর্তীতে উপজেলা নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে কমিটি ঘোষণা দেবার কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এসএম এমন জামাল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নেতা কর্মীদের দাবি এই অঞ্চল শহীদ আঃ বর সেরনিয়াবাতের হাতে গড়া আওয়ামীলীগ। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর তৈরি করা সংগঠন যেন নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে নষ্ট না হয়। সুন্দর ভাবে সংগঠন সাজাতে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তৃনমুলের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

 



সর্বশেষ সংবাদ
%d bloggers like this: