• সম্পাদকীয়
  • »
  • অতিরিক্ত অর্থ অনুমোদনে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়, প্রকল্পে ভুতুড়ে ব্যয়ের অভিযোগ

অতিরিক্ত অর্থ অনুমোদনে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়, প্রকল্পে ভুতুড়ে ব্যয়ের অভিযোগ

NewsBarisal.com

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সম্পাদকীয় : কাউকে সুবিধা দেয়ার মতলবে প্রকল্পে বেশি ব্যয় ধরা হলে এবং তা অনুমোদন পেলে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এতে প্রকল্প থেকে যেমন কাক্সিক্ষত সুবিধা পাওয়া যায় না, তেমনি সর্বসাধারণও সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও ভৌতিক ব্যয়ে প্রকল্প অনুমোদনের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। তাই এসব ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে বলে আমরা মনে করি।

রাজধানীর যানজট কমাতে উত্তরা-মতিঝিল রুটে মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। তা চালুর আগেই বিমানবন্দর-পূর্বাচলে মেট্রোরেল লাইন-১ এবং বাড্ডা-কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই রুটে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে মেট্রোরেল লাইন-৫ হেমায়েতপুর-গাবতলি-ভাটারা পথেও হবে। ২০ কিলোমিটারে ব্যয় হবে ৪১ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। যা আগামী একনেক সভায় অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। ব্যয়ের রেকর্ড শুধু এ প্রকল্পেই নয়, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পেও একই অবস্থা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, এতে ভুতুড়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। একইভাবে বিভিন্ন জেলার নদীপথের উন্নয়নে জিনাই, ঘাঘট, বংশী ও বাগদা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারে শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, নৌপথের উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা, যা খুবই বেশি বলে অনেকেই মনে করছেন।
জানা যায়, অযৌক্তিক ব্যয়ে ২০০ রেল কোচ কেনার চেষ্টা করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বরাবরই অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠালে যাচাই করতে পিইসি সভায় ভুতুড়ে ব্যয়ের কাহিনী ধরা পড়ছে। বাধ্য হয়ে সংশোধনের জন্য ফেরত দেয়া হয়। পরবর্তীতে ডিপিপি তৈরি করতে সময় লাগার ফলে সুবিধাভোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারেরও কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রামে নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) ৭৫০ টাকার বালিশ ক্রয়ে ব্যয়প্রস্তাব করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭২০ টাকা। আর বালিশের কাভারের দাম ধরা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা, যার বাজার মূল্য ৫০০ টাকা। এভাবে ১২টি আইটেমে অনেক বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। ডাক্তারদের সাদা গাউনের মূল্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা। এসব অনিয়ম রোধে নতুন প্রকল্প অনুমোদন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশনকে দৃঢ় ও শক্ত অবস্থান নিতে হবে বলে আমরা মনে করি। যাতে কোনো মন্ত্রণালয় ভুয়া বা বেশি ব্যয়ে প্রকল্প অনুমোদন নিতে না পারে।

 

 



সর্বশেষ সংবাদ
%d bloggers like this: