• এক্সক্লুসিভ
  • »
  • ফেল থেকে পাস করা পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া এখন সময়ের দাবি

ফেল থেকে পাস করা পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া এখন সময়ের দাবি

NewsBarisal.com

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০১৯, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

২০১৬ সালের ঘটনা। এসএসসি পরীক্ষায় ‘হিন্দুধর্ম’ বিষয়ে ফেল করার খবরে অভিমান করে আত্মহত্যা করে উদয়ন স্কুলের মেধাবী ছাত্র সর্বজিত ঘোষ হৃদয়। একমাস পর পূর্নমূল্যায়নে দেখা যায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বোর্ড কর্তপক্ষ দুই পরীক্ষককে বহিস্কার করেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয় এদের চাকুরী থেকেই অব্যহতি দেন। কিন্তু ঘটনা কি থেমেছে? পরীক্ষকদের এ ধরনের ভুল কি বন্ধ হয়েছে? এর পরের তিন বছর এইচএসসি, এসএসসি ও জেএসটির মোট ৯ টি পাবলিক পরীক্ষায় এভাবেই শতাধিক পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে।

কেউ কেউ সরাসরি ফেল থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। এবছরই সদ্য প্রকাশ পাওয়া এইচ এসসির পূনঃ নীরিক্ষণে ফেল করা ৮জন পাস করেছে। তার মধ্যে ফেল থেকে সরাসরি জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪জন। এই এক মাস এদের মানসিক চাপের অবস্থাটা চিন্তা করুণ।

মানুষ মাত্র ভুল আছে। কিন্তু সে ভুলের একটা সীমা থাকার কথা। একজন ছাত্র ৯ বিষয়ে জিপিএ ৫ পাওয়ার পর যখন ইসলাম ধর্ম বা হিন্দু ধর্ম কিংবা অন্য যে কোন সাধারণ একটি বিষয়ে ফেল করে তখন বোর্ড কর্তৃপক্ষের ফলাফল প্রকাশের আগেই তা নিয়ে যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন।

তারা কি সেই ছাত্রটির মানসিক অবস্থার কথা একবারও বিবেচনা করেন? পারিবারিক তাচ্ছিল্য আর সহপাঠিদের কাছ থেকে লজ্জায় নিজেকে গুটিয়ে ফেলতে যেয়ে এদের অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। হৃদয়ের মত দুর্ভাগ্যজনক পরিনতির দিকে এগিয়ে যায় কেউ কেউ।

শিক্ষা বোর্ডের কি কোন দায় নেই? তারা পরীক্ষা ফরম পুরণের জন্য অর্থ গ্রহন করেন, পূনঃ নীরিক্ষার জন্য অর্থ গ্রহন করেন। পূনঃ নীরিক্ষায় ফেল করা ছাত্র যখন পাস করে তখন সবাই চুপচাপ। কারো অনুশোচনা পর্যন্ত নেই। পূনঃ নীরিক্ষার জন্য অর্থ নিয়েছেন। ভূল হয়েছে আপনাদের।

এর দায় কেন নেবে হৃদয়ের মত মেধাবী ছাত্ররা। তাই ফেল থেকে পাস করা পরীক্ষার্থীদের আগামীতে ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। তাদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে মুখ বুঝে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকেন।

একজন ফেল করা ছাত্র যখন পাস করে কিংবা জিপিএ ৫ পায় তখন ভূলটি অবশ্যই পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষকের। এবং সামগ্রিক দায় শিক্ষা বোর্ডের। পরীক্ষকদের বেতন থেকে কিংবা পরীক্ষক হিসাবে বোর্ড থেকে পাওয়া অর্থ কেটে ঐসব ছাত্র ছাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। সবাই শুধু নেবে , কিন্তু দেবে না এটা হতে পারে না।

লেখক : জিয়া শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মানবজমিন

 



সর্বশেষ সংবাদ
%d bloggers like this: