• এক্সক্লুসিভ
  • »
  • সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এসআই নাজমুল হুদা

সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এসআই নাজমুল হুদা

NewsBarisal.com

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০১৯, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ঢাকা থেকে আসা লঞ্চযাত্রীকে চিকিৎসা সেবা ও ১৭ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) ইনচার্জ এসআই নাজমুল হুদা।

গতকাল শনিবার দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে উদ্ধারকৃত টাকা ও উদ্ধারকৃত রোগীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরো ছিলেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুর রাজ্জাক, বহিঃবিভাগ ডক্টর এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সৌরভ সুতার, অর্থোপেডিস্ক ওয়ার্ডের সহকারি রেজিষ্ট্রার ডা. সুদীপ কুমার হালদার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বাকেরগঞ্জে দেউলি গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে নুরুল ইসলাম (৫০) সুন্দরবন লঞ্চযোগে ঢাকা থেকে বরিশালে আসেন। ঘাটে আসে পর লঞ্চ স্টাফরা নুরুল ইসলামকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ দ্রুত নুরুল ইসলামকে মেডিকেলের ইনচার্জ এসআই নাজমুলের কাছে হস্তান্তর করেন।

এসআই নাজমুল দ্রুত নুরুল ইসলামকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করে তার চিকিৎসার সু-ব্যবস্থা করেন। একই সাথে ভর্তি করার পর সার্বক্ষনিক নুরুল ইসলামের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। অচেতন থাকা অবস্থায় এসআই নাজমুল নুরুল ইসলামের সাথে থাকা মানিব্যাগ চেক করে তার পরিচয় জানার চেষ্টা করেন।

এসময় নুরুল ইসলামের আন্ডাওয়্যারের ভিতরে থাকা ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। দ্রুত চিকিৎসা ও সেবা সুশ্রুসা পেয়ে গতকাল ১১টার দিকে নুরুল ইসলামের জ্ঞান ফিরে আসে। পরে নুরুল ইসলাম তার বাড়ির মোবাইল নম্বর ও পরিচয় ব্যক্ত করলে এসআই নাজমুল তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন।

পরে ভাই ও বোন মেডিকেলে এসে নুরুল ইসলামকে শনাক্ত করে। নুরুল ইসলাম অচেতন অবস্থায় থাকায় দীর্ঘসময় তার সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে তার পরিবারের লোকজন দুঃচিন্তায় ছিল। নুরুল ইসলামকে ফিরে পেয়ে তারা আনন্দিত হয়ে পড়ে। তাদের আনন্দের মাত্রা এতটাই ছিল যে নুরুল ইসলামকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে ফিরে পেয়ে পরিবারের লোকজন এসআই নাজমুলকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেন।

তারা এসআই নাজমুলের এমন উদার মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এসআই নাজমুল জানান, অচেতন অবস্থায় নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করি। আমার দায়িত্ব জ্ঞান অনুযায়ী হাসপাতালের চিকিৎকদের সহায়তায় সেবা ও সুশ্রুসা দিয়ে তাকে দ্রুত সুস্থ করা চেষ্টা করি।

সে সুস্থ হয়ে দ্রুত তার পরিবারের নিকট ফিরে গেছে এটাই আমার কাছে বড় ব্যাপার। তার সাথে ১৭ হাজার টাকা ছিল আমি হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেনেও উপস্থিতিতে সেটাও ফিরিয়ে দিয়েছি। আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনুযায়ী আমি কাজ করেছি।

 



সর্বশেষ সংবাদ
%d bloggers like this: